আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত ও ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার প্রয়োগ করেছে ইরান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন দারজি। শনিবার ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
দারজি বলেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের আওতাভুক্ত।
তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন। তবে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
ফিলিস্তিন পরিস্থিতি তুলে ধরে দারজি বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে ইরান মনে করে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগও করেন তিনি।
ইরানি প্রতিনিধি গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহার, সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার, স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে পূর্ণ সম্মান জানাতে হবে। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন দারজি। তিনি লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব মেনে চলার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমি ও অন্যান্য অধিকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর দাবি জানান তিনি।
দারজির অভিযোগ, ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
দারজি বলেন, গত জুনে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তাঁর অভিযোগ, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সমালোচনা করেন ইরানি প্রতিনিধি।
তেহরানের বক্তব্য, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করা, ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দেওয়া, দেশটির সার্বভৌম অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো এবং নৌ অবরোধসহ অন্যান্য চাপমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে ইরানের ঘোষিত অবস্থান এবং বাস্তবে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি এক বিষয় নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, জাহাজ ডুবে যাওয়া ও চলাচলে বিধিনিষেধের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বেলুচিস্তান
'ইন্টারনেট শিশুদের মৌলিক অধিকার, কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না'
‘ভিডিওটি টানা ১১ ঘণ্টা পেজে ঝুলিয়ে রাখা হলো!’