অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জামের পরিমাণ ও গুণগত মান, দুই দিক থেকেই ইরান আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক দুই দফা সংঘাত থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে ইরান। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ইরানের সেনাবাহিনীর একটি যুদ্ধ-আক্রমণকারী ড্রোন উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন হাতামি। তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ওপর সামান্যতম আস্থাও রাখা যায় না, এমন অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে ড্রোন, চালকবিহীন নৌযান ও ক্ষুদ্র আকাশযানের মতো মনুষ্যবিহীন অস্ত্রের গুরুত্বও তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তাঁর মতে, এসব প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যক্রমের পরিধি আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মিশনে এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা সম্ভব হওয়ায় ইরানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এগুলো বিশেষ স্থান পেয়েছে।
হাতামি বলেন, মনুষ্যবিহীন অস্ত্র উৎপাদন, সেগুলো বিভিন্ন ইউনিটে সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ইরান বিশেষভাবে কাজ করছে। এসব সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ড্রোন ও অন্যান্য মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ইরান এখন উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন হাতামি। তবে তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ মনে করেছিল ইরান প্রচলিত যুদ্ধ ও অসম যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অথচ ইরানের সামরিক সরঞ্জামের একটি অংশ প্রচলিত যুদ্ধের জন্য তৈরি হলেও বড় একটি অংশ অসম যুদ্ধের প্রয়োজন বিবেচনায় প্রস্তুত করা হয়েছে।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, অসম যুদ্ধের জন্য বিশেষ ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন, আর ইরান সে অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে। এ ক্ষেত্রে সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনীর চারটি শাখাই যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেন হাতামি। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সামরিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি