ইরানের ধর্মীয় বিশ্বাসকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হিসেবে দেখানোর মার্কিন দাবির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অচল হয়ে পড়ার কারণ ইরানিদের ধর্মীয় বিশ্বাস নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার ধরন, কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতা এবং চাপ প্রয়োগের নীতি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের জবাব দেন বাঘাই। রুবিও এর আগে বলেছিলেন, ইরানিদের ধর্মীয় বিশ্বাস আলোচনার অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা এবং বলপ্রয়োগ ও চাপের ওপর নির্ভর করার সঙ্গে ইরানিদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক কোথায়?
বাঘাই বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস থাকলেই যে যুক্তিবাদী হওয়া যায় না, এমন নয়। একইভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকলেই প্রজ্ঞার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌক্তিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের ধর্মীয় বিশ্বাস কোনো বাধা নয়; বরং ওয়াশিংটনের আলোচনার পদ্ধতিই মূল সমস্যা। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত কূটনৈতিক সংলাপের পরিবর্তে একতরফাভাবে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে চাইছে।
ইরানের এই মুখপাত্র আরও বলেন, পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া কেবল এক পক্ষের কাছ থেকে ছাড় দাবি করে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অপর পক্ষের বৈধ স্বার্থ উপেক্ষা করে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া এবং একই সঙ্গে সমঝোতার প্রত্যাশা করা কার্যকর কূটনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাঘাই ওয়াশিংটনকে ইরানিদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আদর্শিক ধারণার ভিত্তিতে মন্তব্য করা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার মতে, আলোচনায় অগ্রগতি চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কৌশলগত স্বার্থ ও বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে নিজেদের অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি পর্যালোচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট, তেহরান আলোচনার অচলাবস্থার দায় নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর চাপানোর মার্কিন অবস্থান প্রত্যাখ্যান করছে। বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষা, পারস্পরিক ছাড় এবং ইরানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগকে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে তারা। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে নতুন কোনো সমঝোতা বা পরবর্তী বৈঠকের তথ্য বাঘাইর বক্তব্যে জানানো হয়নি। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি
অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরান আরও সক্ষম: সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ে ইরানের কিছু মানুষ বেশি হতাশ: আইআরজিসি কর্মকর্তা
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মোদি-নেতানিয়াহু ফোনালাপ