ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু করা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ধনকুবের ও প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী পিটার থিয়েল। যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু ভুল করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, গত ১২ অক্টোবর ন্যাশভিলে আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন থিয়েল। ওই অনুষ্ঠানের অডিও পলিটিকোর হাতে এসেছে। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে তিনি সন্দিহান এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতে জড়ানো উচিত হয়নি। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধের ক্ষেত্রে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের সামরিক দিকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন থিয়েল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংঘাতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার মতো পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি ওয়াশিংটনের রয়েছে কি না। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তুলে ধরেন তিনি।
থিয়েল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হয়তো প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি নেই। এমনকি আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়েও দেশটি হেরে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক প্রভাবের সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশভিলে ধারাবাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দেওয়া ওই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং নব্য রক্ষণশীল পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতাও করেন থিয়েল। তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও প্রভাবের ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
পিটার থিয়েল রিপাবলিকান পার্টির একজন বড় অর্থদাতা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে তাঁর এমন সংশয় প্রকাশ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্যটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে দেওয়া এবং তা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন হিসেবেই সামনে এসেছে। সূত্র: ডন
ইরানের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কূটনীতিতে বাধা দাবি করায় তেহরানের সমালোচনা
অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরান আরও সক্ষম: সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ে ইরানের কিছু মানুষ বেশি হতাশ: আইআরজিসি কর্মকর্তা