ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের পর দেশটির সঙ্গে আবারও শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে শান্তির জন্য ইসরায়েলের প্রতি আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে চান তারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেসের সঙ্গে বৈঠকে এ আশার কথা জানান আব্বাস। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে আলোচনার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুই দেশ যেন নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও শান্তির মধ্যে বসবাস করতে পারে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
আব্বাস আরও বলেন, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপে বসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন। তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন দেশটির সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ইসরায়েলের নির্বাচনের প্রায় সব ভোট গণনা শেষ হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট, কেউই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই। ফলে সরকার গঠনের জন্য দুই পক্ষকেই সম্ভাব্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনা ও জোট গঠনের চেষ্টা চালাতে হতে পারে। এই প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির হয়ে আছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশ স্বীকৃতি দিলেও দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি। এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিত স্বশাসন পরিচালনা করে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী প্রকাশ্যেই পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যেতে উৎসাহিত করে এমন নীতির পক্ষেও তারা কথা বলেছেন। এসব অবস্থান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে পরিচালিত ওই যুদ্ধে উপত্যকার বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে ইসরায়েল। সেখানে প্রায় তিন লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলি বসতিতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের পর শান্তি আলোচনা শুরুর যে প্রত্যাশা আব্বাস জানিয়েছেন, তা বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে দেশটির নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের অবস্থানের ওপর। তবে আব্বাসের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আগ্রহ এখনো রয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ