পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মারাহ আওয়াদকে আটকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এক ইসরায়েলি সেনা। ছবিতে তার চোখ বাঁধা ও দুই হাত হাতকড়া দিয়ে আটকানো অবস্থায় দেখা যায়। পাশে মুখোশ পরা অস্ত্রধারী এক ইসরায়েলি সেনাও রয়েছেন। গত ২৬ অক্টোবর অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেইত উম্মার শহরে এ ঘটনা ঘটে বলে ছবির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়াদ একজন স্বাধীন সাংবাদিক। তাকে আটকের সময়ের ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অনেকে ঘটনাটিকে উসকানিমূলক দৃশ্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকেও ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে।
আওয়াদের ভাই ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের পারিবারিক বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে আওয়াদকে শনাক্ত করে তার হাত বেঁধে ও চোখ ঢেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সেনারা।
আওয়াদের ভাই হামুদা আওয়াদ বলেন, ভোরে তাদের বাড়িতে ঢুকে সেনারা তার বোন মারাহর খোঁজ করে। এরপর বাড়িতে তল্লাশির সময় সেনারা তাকে মারধর করে। তার বোনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক কর্মকর্তা জানতে চান, তিনি ইসরায়েল সম্পর্কে কী লেখেন। ওই কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
হামুদা আরও জানান, অভিযানের সময় তার বোনের মুঠোফোন ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়। এরপর সেনারা তার হাত বেঁধে চোখ ঢেকে তাকে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা এখনো তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা-ও তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আওয়াদের শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি আরেক সাংবাদিক ফারাহ আবু আয়াশ। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এই সাংবাদিক ৪৫০ দিন ইসরায়েলি হেফাজতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট বেইত উম্মারে তার বাড়িতে অভিযানের পর তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে অধিকৃত আল-কুদসের মস্কোবিয়া আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে কারারক্ষীদের হাতে নির্যাতন, হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কারাগারে থাকাকালে আবু আয়াশ তার ওপর নির্যাতনের বিবরণ পাঠাতে সক্ষম হওয়ার পর তাসনিম সংবাদ সংস্থাটি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এর আগে আদালতে চলমান প্রক্রিয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সংস্থাটি তার পরিস্থিতি প্রকাশ করেনি।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়নের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে মারাহ আওয়াদ ও ফারাহ আবু আয়াশের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছে প্রেস টিভি। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ২৫০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি ছিলেন অবরুদ্ধ গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। সূত্র: প্রেস টিভি