দুই মাসের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বুশরা আল-তাওইলকে নির্জন কারাবাসে আটকে রেখেছে ইসরায়েল। এ সময়ে তার ওপর একাধিকবার কারাকক্ষ তল্লাশি, মারধর, কাঁদানে গ্যাসের সংস্পর্শে আনা এবং মৌখিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব (পিপিসি)।
রোববার (১ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, বুশরার ওপর চলমান কঠোর বন্দিজীবন তার নিরাপত্তা ও শারীরিক সুস্থতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। তার নির্জন কারাবাসের পাশাপাশি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক আটকাদেশের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়িয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রশাসনিক আটক ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের একটি নীতি। এর আওতায় ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন কিংবা বিচার ছাড়াই ছয় মাস পর্যন্ত আটক রাখা যায়। এই আটকাদেশের মেয়াদ পরবর্তী সময়ে বারবার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয় আটক ব্যক্তিদের।
বুশরার বন্দিজীবনের পরিস্থিতি নিয়ে আরেক সংগঠন প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি (পিপিএস) জানিয়েছে, তার চোখ, ত্বক ও হাতের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। হাতকড়া পরিয়ে রাখার কারণে হাত অবশ হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিয়েছে। নির্জন কারাবাসে নেওয়ার আগেও তিনি খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত ছিলেন বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিপিএসের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে বুশরার খাবারের পরিমাণ অপর্যাপ্ত। পান করার জন্য তাকে হলদেটে রঙের কলের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। পরিষ্কার পোশাক কিংবা ব্যবহৃত কাপড় ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। তার বিছানার চাদর ও অন্যান্য শয্যাসামগ্রী নোংরা ও দাগে ভরা। সেগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে তার মনে হচ্ছে, মেঝেতে ঘুমাতে হচ্ছে। কম্বলের অবস্থাও ভালো নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুশরার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ড্যামন কারাগার থেকে রামলা কারাগারের নির্জন কারাবাসের অংশে নেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর তার কাছ থেকে জোর করে কিছু কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। সেসব কাগজে তাকে ড্যামন কারাগারে স্থানান্তরের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তাকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেয়ারশেবার ওহালেই ওজ কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই আটক রয়েছেন তিনি।
বুশরার নির্জন কারাবাসের অবসান, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে পিপিসি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি তার আটক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সূত্র: প্রেস টিভি