সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে 'যথেষ্ট পরিণত নন' বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন। সোমবার (২ নভেম্বর) ট্যাগলিট গ্লোবাল বিজনেস সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতার প্রশংসাও করেন কোহেন।
সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে কোহেন বলেন, ‘সম্ভবত তিনি যথেষ্ট পরিণত নন।’ তবে মন্তব্যটির পরই তিনি যোগ করেন, ‘আমার এই কথা উদ্ধৃত করবেন না।’ সোমবারের (২ নভেম্বর) ওই সম্মেলনে বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, শীর্ষ নির্বাহী ও জনহিতৈষীদের মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ জন অংশ নেন বলে আয়োজকদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সম্মেলনে অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন স্যার রোনাল্ড কোহেন ও ডানা আজরিয়েলি।
অর্থনীতি নিয়ে আয়োজিত ‘শেপিং আওয়ার ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক সম্মেলনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন মোসাদের সাবেক এই প্রধান। তার ভাষ্য, ইরানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। এসব সক্ষমতা যেন তাদের হাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতার প্রশংসা করে কোহেন বলেন, দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সমন্বয় তিনি ও তার মতো অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে দেখতে চেয়েছেন। তার কথায়, ইরানে দুই দেশের বাহিনীর কার্যক্রম এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শিল্প স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, এটাই তাঁদের প্রত্যাশিত সহযোগিতার ধরন।
তবে বাইরে থেকে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন না। কোহেন বলেন, এ পরিবর্তন ইরানের জনগণকেই ঘটাতে হবে। শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করা যে কঠিন ও বিপজ্জনক, সে বিষয়েও তিনি অবগত বলে জানান। তবে তার দাবি, বর্তমানে ইরানের শাসকগোষ্ঠী আগের চেয়ে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির বহু স্থাপনা ও কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় আঘাত হানা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও মনে করেন কোহেন। তবে কখন, কীভাবে কিংবা কোন স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। কোহেনের দাবি, ইরান নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন বা মেরামত করতে পারে। এসব সক্ষমতা যেন ইরানের হাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে কোহেন বলেন, ট্রাম্প একটি ‘ভালো চুক্তি’ চান এবং ‘খারাপ চুক্তির’ জন্য আপস করতে রাজি নন। তবে ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনা করছে না বলেও অভিযোগ করেন মোসাদের সাবেক প্রধান।
সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইহুদিবিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন কোহেন। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্বের যেখানেই ইসরায়েলি নাগরিক ও ইহুদিরা থাকুন না কেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মোসাদের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি নিজস্বভাবে কিছু অভিযান পরিচালনা করে, আবার স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করে বলে জানান তিনি। প্রবাসী ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় মোসাদ উল্লেখযোগ্য সম্পদ ব্যয় করে বলেও দাবি করেন কোহেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের জন্য প্রবাসী ইহুদিদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
হরমুজ প্রণালিতে ৯ দিনে ১১ তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন: আইআরজিসি
শিগগিরই আইজেনকটকে নিয়ে সরকার গঠনের প্রত্যয় গোলানের
কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে পুতিনের সঙ্গে রেজাই'র ফোনালাপ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সমালোচনায় বিল ক্লিনটন