যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের হুমকির মধ্যে ‘বিশ্ব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জাতীয় দিবস’ পালন করছে ইরান। এ উপলক্ষে বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশজুড়ে সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯০০টিরও বেশি স্থানে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দিবসটি ইরানের ছাত্র দিবস হিসেবেও পালিত হচ্ছে।
এ বছরের কর্মসূচির মূল স্লোগান, ‘শহীদদের প্রতি অঙ্গীকার, বিশ্ব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম’। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তেহরানে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় প্যালেস্টাইন স্কয়ার থেকে মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি তালেঘানি স্ট্রিট হয়ে ১৯৭৯ সালে দখল করা সাবেক মার্কিন দূতাবাসের সামনে গিয়ে সমবেত হওয়ার কথা।
ইরানে সাবেক মার্কিন দূতাবাসটি বর্তমানে ‘গোয়েন্দাগিরির আস্তানা’ নামে পরিচিত। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানি বিপ্লবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নানা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দেশটির শিক্ষার্থীরা দূতাবাসটি দখল করেছিলেন বলে উল্লেখ করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি। সেই ঘটনার স্মরণেই প্রতিবছর ১৩ আবান, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর দিবসটি পালন করা হয়।
৪ নভেম্বরের কর্মসূচি আয়োজনের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের প্রধান মোস্তফা রোস্তামি জানান, তেহরানে মিছিলের পথে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সেবামূলক ও সাংস্কৃতিক স্টল, প্রদর্শনী এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার নানা আয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
আয়োজক কমিটি ধর্মীয় সংগঠন, মসজিদকেন্দ্রিক কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষকেও সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও বিপ্লবী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি এবার এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকির কথা বলছে। তবে প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি