শত্রু কোনো পদক্ষেপ নিলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জবাব দেবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তেহরানের জুমার নামাজের খুতবায় এ কথা বলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আহমাদ খাতামি।
খাতামির ভাষ্য, সেনাবাহিনী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), বাসিজ ও পুলিশ, সব বাহিনীই হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন এই ধর্মীয় নেতা। তাঁর মতে, ইরান নীতিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।
খাতামির এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। এ সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ। এই ফলাফল ঘিরে ওয়াশিংটনের ইরান-নীতি বদলাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ‘বাকি অংশও’ গুঁড়িয়ে দিতে হতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, নতুন করে হামলার পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নির্দেশ পেলেই বড় অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরানও পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া শুক্রবারই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আবার হামলা হলে ভৌগোলিক সীমা না মেনেই মার্কিন সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি জানিয়েছেন, নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের আগে কাগজের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ চায় তেহরান।