হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির গণমাধ্যম ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাতে জানিয়েছে, ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ড্রোনটি নামিয়ে এনেছে। খবরটি দিয়েছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
একই এলাকায় ড্রোন ধ্বংসের দাবি এবারই প্রথম নয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালেই ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, কেশম দ্বীপের কাছে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন অকেজো করা হয়েছে। আইআরজিসির এক মুখপাত্র দাবি করেন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই দুটি ড্রোন নামানো হয়েছে। তাঁর হিসাবে, এমকিউএম-১৭০ ধরনের মার্কিন ড্রোন এ পর্যন্ত ছয়টি ইরানি বাহিনীর হাতে এসেছে।
এসব দাবির স্বাধীন যাচাই হয়নি।
হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা অবশ্য এখানেই থামছে না। বৃহস্পতিবার উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা সংস্থা। শুক্রবার ওমানের খাসাবের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ আছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ওয়াশিংটনের কড়া বক্তব্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ‘বাকি অংশও’ গুঁড়িয়ে দিতে হতে পারে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নতুন হামলা হলে ভৌগোলিক সীমা না মেনেই মার্কিন সম্পদে আঘাত হানা হবে।
কূটনৈতিক পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি বলেছেন, কাগজের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় ইরান।
সূত্র: ডন
হরমুজে চলাচলে চার দেশকে বিশেষ ছাড় দিলো ইরান, নেপথ্যে কী
ফের হামলা হলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সম্পদ নিশানায়: মোহাম্মদ আকরামিনিয়া