‘শত্রুর হামলার মুখেও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে ইরান’

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা শিল্প পুরোপুরি দেশীয়করণ করা গেছে। অবকাঠামো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে, প্রস্তুতিও আছে। তাই শত্রুর হামলার মুখেও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে ইরান। এমন দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এয়ারস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি।

আল-আলম নিউজ নেটওয়ার্কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বালালি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সব চাহিদা ইরান নিজেই মেটায়। এই স্বনির্ভরতার কারণে দেশের প্রতিরক্ষা বিদেশি কোনো নির্ভরতার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। প্রতিরোধ-সক্ষমতাও বেড়েছে।

উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব, সারা দেশেই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঘাঁটিগুলো মাটির অনেক গভীরে তৈরি। ফলে বাহিনী সেখানে মোতায়েন থাকতে, অভিযানের প্রস্তুতি নিতে এবং একটানা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।

চলমান নৌ-লক্ষ্যবস্তু ঠেকাতে 'খালিজ-ই ফার্স' (পারস্য উপসাগর) নামের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কথাও বলেন বালালি। তাঁর দাবি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পারস্য উপসাগর থেকে তাড়াতেই এটি বানানো। ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা জানার পর মার্কিন বাহিনী আরও দূরে সরে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রও আলোচনায় আসে। উদাহরণ হিসেবে খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্রের নাম নেন তিনি। বালালির দাবি, এটি ৮০টি ছোট বোমা ছড়িয়ে দিতে পারে। এমন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্রচুর সংখ্যক দামি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র লাগবে, যুক্তি তাঁর।

দখলকৃত ভূখণ্ডে ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট, নেগেভ ও ডিমোনায় ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ থেকেই নাকি প্রমাণ মেলে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধে ভূপাতিত ড্রোন সংগ্রহ করেছে ইরান। সেগুলো খুলে বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান বালালি।

বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত ছিল, বলেন তিনি। ইরানের সক্ষমতা ও পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা আগে জানা থাকলে প্রতিপক্ষ হামলার সাহস করত না, এমন যুক্তিও দেন।

ইরানের অস্ত্রের নাগালের মধ্যে প্রতিপক্ষের কোনো স্থানই নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করেন বালালি। বর্তমানে এসব অস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার।

নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী যেকোনো দেশ বা শক্তি বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অস্ত্রের পাল্লার বাইরে সরে যেতে এবং পশ্চিম এশিয়া ছাড়তেও আহ্বান জানান বালালি।

এটিটিআর
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত