ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কে তৈরি হওয়া ‘বিষাক্ততা ও তিক্ততা’ কিছুটা কমতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার।
আলজাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে মিলার বলেন, গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে তাঁর তদবির যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর মতে, এসব কারণে ইসরায়েলের প্রতি অনেক মার্কিন নাগরিক, ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক এবং বেশ কয়েকজন রিপাবলিকানের মনোভাব নেতিবাচক হয়েছে।
মিলার বলেন, আইজেনকোটের সরকার কিংবা নেতানিয়াহুবিহীন অন্য কোনো সরকার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ‘বিষাক্ততা ও তিক্ততা’ দূর করতে সহায়তা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আইজেনকোট যদি সরকার গঠনের জন্য ফিলিস্তিনপন্থী বা আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করেন, তাহলে ইসরায়েল সব নাগরিকের জন্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র—এ ধারণার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে।
নতুন সরকার গঠিত হলে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, সে বিষয়েও কথা বলেন মিলার।
তাঁর মতে, আইজেনকোট যদি টিকে থাকার মতো একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন, তাহলে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এ ছাড়া গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার বিষয়ে আরও সহযোগিতামূলক অবস্থান নিতে পারেন আইজেনকোট। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ থাকতে পারে বলে মনে করেন মিলার।
তবে লেবানন নিয়ে পরিস্থিতি জটিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী শক্ত অবস্থান তৈরি করে রেখেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে সেখান থেকে তাদের সরে যাওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
মিলারের বক্তব্য অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গাজা নীতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসবই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপের বিশ্লেষণ। নতুন সরকার গঠিত হওয়া, তার স্থায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয় এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আলজাজিরা।