যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বৈশ্বিক শুল্ককে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের ঐতিহাসিক রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বের সব দেশের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের কঠোর সমালোচনা করেন। ৬-৩ ভোটের এই রায়কে ‘ভুল’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আদালতের কিছু সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত। দেশের জন্য যা সঠিক, তা করার সাহস তাদের নেই।’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বছরের পর বছর ধরে সুবিধা নেওয়া বিদেশি রাষ্ট্রগুলো এই রায়ে অত্যন্ত খুশি এবং তারা ‘রাস্তায় নাচছে’। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তাদের এই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হবে না। আমি কথা দিচ্ছি, তারা আর বেশিক্ষণ নাচতে পারবে না।’
আদালতের বাধা এড়াতে ট্রাম্প এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ এবং ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আজ শুক্রবারই তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন, যার মাধ্যমে নিয়মিত শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর হবে।
১৯৭৪ সালের আইনের সেকশন ১২২ অনুযায়ী, বৈদেশিক লেনদেনে বড় ধরনের ঘাটতি মেটাতে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। তবে এর বেশি সময় শুল্ক কার্যকর রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে স্পষ্ট বলেছিলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কর বা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। ট্রাম্প একে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস আমাকে আগেই এই ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে, তাই নতুন করে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। আমরা কেবল একটু জটিল পথ অবলম্বন করছি।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ আবারও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ১৫০ দিন পর কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়া তার নিজের দলের বিরোধিতার কারণেও কঠিন হতে পারে।