ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে পেন্টাগনের বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন এই যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি তহবিল চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই প্রস্তাবের কঠোর বিরোধিতা করে সাফ ‘না’ জানিয়ে দিয়েছেন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন।
মেরিল্যান্ডের এই সিনেটর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অত্যন্ত কড়া ভাষায় পেন্টাগনের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমেরিকানরা চায় না এমন একটি ‘ইচ্ছাধীন যুদ্ধের’ (War of Choice) জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হচ্ছে, যা আমাদের মোটেও নিরাপদ করছে না। এই প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
সিনেটর ভ্যান হোলেন আরও যোগ করেন যে, এই যুদ্ধ বন্ধ করার, মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দেওয়ার এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বাঁচানোর সর্বোত্তম উপায় হলো যুদ্ধের তহবিল বন্ধ করে দেওয়া। বর্তমান প্রশাসনকে ‘আইনহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অর্থ বরাদ্দের প্রশ্নে তার ভোট হবে ‘হ্যাল নো’ (Hell No) বা চরম অসম্মতি।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইতোমধ্যেই হোয়াইট হাউসের কাছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের অনুরোধ জমা দিয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে কংগ্রেসের কাছে ঠিক কত টাকা চাওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক সাক্ষ্যের পর এই তহবিলের বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। গ্যাবার্ড জানিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের আগে ইরান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেনি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে যেখানে প্রশ্ন উঠছে, সেখানে নতুন করে এই বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ মার্কিন কংগ্রেসকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। সূত্র: আলজাজিরা