সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, সৌদি আরব এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর তেহরানের ক্রমাগত হামলার মুখে তাদের ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে আসছে। তিনি ইরানকে অবিলম্বে তাদের আক্রমণাত্মক কৌশল ‘পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রিয়াদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল এ আহ্বান জানান। রিয়াদে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠকের পর এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন মনে হলে আমরা সেই শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করব না।
তেহরান এসব হামলার দায় অস্বীকার করলেও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে যেভাবে নির্ভুল লক্ষ্যভেদে হামলা চালানো হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে এগুলো অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে বলব না যে ঠিক কী ঘটলে আমরা পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেব, কারণ শত্রুকে আগাম সংকেত দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে ইরানীদের বোঝা উচিত যে আমাদের ধৈর্য অসীম নয়। তাদের হাতে আর কত সময় আছে, এক দিন না কি এক সপ্তাহ- তা আমি বলব না। আমি আশা করি তারা দ্রুত তাদের ভুল বুঝবে, যদিও তাদের সেই শুভবুদ্ধি আছে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
এর আগে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান (Habshan) গ্যাস ফিল্ড এবং কাতারের রাস লাফান (Ras Laffan) এলএনজি কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার পর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালো রিয়াদ। বিশেষ করে কাতারের গ্যাস ফিল্ডটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যার জেরে কাতার ইতিমধ্যেই ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে।
এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে চরমে পৌঁছালো যখন ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের সাউথ পারস (South Pars) গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের এই সরাসরি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আর কোনো হামলা চান না ট্রাম্প
লারিজানির হত্যাকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে
