ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সরে যাওয়ার হুমকি দিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জোটটিকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ন্যাটোতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনারও বাইরে চলে গেছে।
দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার উদ্যোগে ন্যাটো মিত্ররা পাশে দাঁড়ায়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ন্যাটো কখনোই তার আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, এই জোটকে দুর্বল হিসেবেই দেখেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে কটাক্ষ করে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কূটনীতিক মার্কো রুবিওও ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এই জোটের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে রক্ষা করলেও প্রয়োজনের সময় ইউরোপ পাল্টা সহযোগিতা দিচ্ছে না।
তবে ট্রাম্পের এমন অবস্থানের জবাবে কিয়ার স্টারমার ন্যাটোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সামরিক জোট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাজ্য নিজের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবে এবং ইরান যুদ্ধে জড়াবে না।
এই উত্তেজনার মধ্যেই জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে ‘পে-টু-প্লে’ মডেল চালুর কথাও ভাবছে, যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না করলে সদস্য দেশগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারে। পাশাপাশি জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ত্যাগ সহজ নয়, আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে না। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ