আলোচনা ব্যর্থ, যা বললেন মার্কিন বিশ্লেষক

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ফলাফল নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে, তখন নতুন এক বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের থেয়ার মার্শাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডেভিড ডেস রোচেস। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই বৈঠকটি ব্যর্থতা নয় বরং ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের একটি শক্তিশালী মহড়া ছিলো।

রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

অধ্যাপক রোচেসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের কাছে তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট বা 'গোলপোস্ট' নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান যুদ্ধকালীন লক্ষ্য। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি, বরং তা আরও স্পষ্ট করেছে।

ধারণা করা হচ্ছিল যে, ইরান হয়তো জ্যারেড কুশনার বা স্টিভ উইটকফের চেয়ে জেডি ভ্যান্সের কাছে বেশি নমনীয় আচরণ আশা করেছিল। কিন্তু ইসলামাবাদে তারা বুঝতে পেরেছে যে, ট্রাম্পের পুরো দলই একই অবস্থানে অটল। ডেস রোচেস মনে করেন, জেডি ভ্যান্সের এই আলোচনায় অংশগ্রহণ ছিল একটি কৌশল। এটি ইরানকে এই বার্তা দিয়েছে যে, প্রশাসনের ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির কাছে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ ত্যাগকে আলোচনার চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট সব সময় আলোচনার টেবিলে বসে থাকবেন এমনটা ভাবা অবাস্তব। তিনি মূলত প্রশাসনের গুরুত্ব বোঝাতে এবং আমেরিকার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিশ্চিত করতেই সেখানে গিয়েছিলেন।

ডেস রোচেস আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনার মূল পক্ষগুলো এবং তাদের দাবিগুলো এখন স্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে হয়তো আরও কার্যকর কোনো সমঝোতার পথ খুলে যাবে।