ইরানের সাথে বহুল আলোচিত চুক্তিটি ঠিক কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম নাটকীয়তা ও অপেক্ষা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘সিচুয়েশন রুম’-এ দীর্ঘ বৈঠকের পরও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তবে এই আলোচনার ক্ষেত্রে ট্রাম্প তাঁর ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্তগুলো আবারও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান তিনটি শর্ত হলো—ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে এবং এই প্রণালিতে পুঁতে রাখা সব মাইন বা বিস্ফোরক ইরানকে অতি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তবে মাইন অপসারণের এই শর্তটি ইরানের জন্য বেশ কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পই এর আগে একাধিকবার দাবি করেছিলেন যে, ইরানি নৌবাহিনীর মাইন খোঁজা এবং তা নিষ্ক্রিয় করার যত জাহাজ ছিল, তার সবই মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এমন আভাস রয়েছে যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়াটা হতে পারে এই চুক্তির প্রথম ধাপ।
যদি প্রথম পদক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়, তবে দ্বিতীয় পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি একবারে না হয়ে পর্যায়ক্রমে বা ধীরে ধীরে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমীকরণটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশের অনড় অবস্থানের মাঝে হলেও বরফ কিছুটা গলতে শুরু করেছে।
এর আগেও বেশ কয়েকবার শুক্রবারের দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, চুক্তি প্রায় সম্পন্ন এবং ইরান আমেরিকার সব শর্ত মেনে নিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে বাস্তব পরিস্থিতি তেমন ছিল না। অতীতের ধারাবাহিকতায় আবারও একটি শুক্রবারে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে দীর্ঘ বৈঠক শেষ হলো এবং বিশ্ববাসী এখনও চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে—আসলে সেখানে চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা