মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা অভূতপূর্ব স্তরে নিয়ে যেতে এবং প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে পুনর্গঠন করতে চলতি বছর ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের একটি বিশাল ‘প্রজন্মভিত্তিক বিনিয়োগ’ করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সিঙ্গাপুরে চলমান ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’ নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব (ডিফেন্স সেক্রেটারি) পিট হেগসেথ এই মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন।
হেগসেথ বর্তমান পরিস্থিতিকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের একটি "ঐতিহাসিক জাতীয় উৎপাদন গতিশীলতা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সম্মেলনে মার্কিন মিত্রদের উদ্দেশে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতা বজায় রাখতে হলে এখন থেকে প্রতিটি মিত্রদেশকে তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৩.৫ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করতে হবে।
ওয়াশিংটন এখন থেকে কেবল সেইসব দেশের সাথেই সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেবে, যারা এই শর্ত পূরণ করে ‘মডেল মিত্র’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করবে। আর যেসব মিত্রদেশ প্রতিরক্ষার পেছনে এই পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেবে না, তাদের সাথে আমেরিকার বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কে একটি ‘সুস্পষ্ট পরিবর্তন’ বা নীতিগত দূরত্ব তৈরি হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
আমেরিকার করদাতাদের টাকায় অন্য দেশগুলোর নিরাপত্তা দেওয়ার নীতি যে ট্রাম্প প্রশাসন আর মেনে নেবে না, তা হেগসেথের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মিত্রদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "যারা মনে করছেন যে তারা আমেরিকান করদাতাদের উদারতার ওপর ভর করে বিনামূল্যে পার পেয়ে যাবেন, তারা এখনই আমাদের বার্তাটি শুনে রাখুন—সেই দিন এখন শেষ।"
এই সাহসী ও কঠোর পথ বেছে নেওয়াকে আমেরিকার জন্য কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি ‘কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা
ধনী দেশগুলোকে মার্কিন ভর্তুকি দেওয়ার দিন শেষ: পিট হেগসেথ