মার্কিন নৌসচিব জন ফেলান বরখাস্ত

ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলাকালীন এক নাটকীয় পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সচিব (নেভি সেক্রেটারি) জন ফেলানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তার এই ‘অবিলম্বে কার্যকর’ বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন নৌবাহিনীর আন্ডার সেক্রেটারি ও ২৫ বছরের অভিজ্ঞ সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হাং কাও।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল আনুষ্ঠানিকভাবে ফেলানকে তার সেবার জন্য ধন্যবাদ জানালেও বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ফেলানের সম্পর্ক গত কয়েক দিনে চরম তিক্ততায় পৌঁছেছিল।

বিশেষ করে, মার্কিন সিনেটর মার্ক কেলি এক ভিডিও বার্তায় সেনাদের ‘অবৈধ নির্দেশ না মানার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই ঘটনার বিপরীতে ফেলান যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন হেগসেথ। এছাড়া জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে হেগসেথের ডেপুটি স্টিফেন ফিনবার্গের সঙ্গেও ফেলানের তীব্র মতবিরোধ ছিল।

জন ফেলান মূলত একজন বেসামরিক ব্যবসায়ী এবং ট্রাম্পের বড় অংকের অর্থ জোগানদাতা। সামরিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই প্রশাসনিক পদে আসীন হন। ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ বা নতুন যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনায় ফেলানের জোরালো সমর্থন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর বেসামরিক দৃষ্টিভঙ্গি পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতৃত্বের সাথে খাপ খেতে পারেনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পিট হেগসেথ মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল শুরু করেছেন। ফেলানের আগে তিনি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র‍্যান্ডি জর্জসহ এক ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক বাহিনীতে শতভাগ অনুগত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে চায়।

ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও একজন সুপরিচিত সমরবিদ, যিনি ২০২৪ সালে ভার্জিনিয়ায় সিনেট নির্বাচনে লড়েছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এই মুহূর্তে মার্কিন নৌ-অভিযানকে নতুন গতি দেবে বলে মনে করছে পেন্টাগন।