ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আগামী রোববার শেষ হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’ (KAN) বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তেল আবিবকে নিশ্চিত করেছেন যে- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের জন্য যে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, তা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে একটি দ্রুত এবং চূড়ান্ত বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চাইছেন। তবে রোববারের মধ্যে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের অনেক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কেবল গণমাধ্যম এবং ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমেই জানতে পারছেন, যা তাঁদের মধ্যে চরম ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি করেছে।
বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শর্ত ছিল যে-তেহরানকে একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ পেশ করতে হবে। সেই প্রস্তাব সন্তোষজনক না হলে এই সাময়িক শান্তি বজায় থাকবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদের দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রোববারের ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগে যদি ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম আস্থার সংকটই বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধানের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
৩টি ইরানি সুপারট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ৬ মাস সময় লাগবে