মধ্যপ্রাচ্যের 'মেঘ চুরি' করতো যুক্তরাষ্ট্র!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে এবার ছড়িয়েছে এক অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাকি ‘মেঘ চুরি’ করতো, আর ইরান যুদ্ধের কারণে সেই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন বৃষ্টি বাড়ছে। তবে বাস্তবতা বলছে, এই দাবির পক্ষে নেই কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, নেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।

ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নাকি বিমান ব্যবহার করে মেঘ ভেঙে ফেলে বা চুরি করার চেষ্টা করতো। তার দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে বৃষ্টি বাড়ার কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধে ব্যস্ত, তাই এই কাজ করতে পারছে না।

তবে এ বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখপাত্র আমের আল-জাবিরি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই দাবি ‘বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিসঙ্গত’ নয়। বরং আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে ২০২৬ সাল ইরাকে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের বছর হবে।

এ ধরনের গুজব আরও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যেখানে কেউ কেউ বলছেন, আকাশপথ বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ‘মেঘ চুরি’ করতে পারছে না, তাই তুরস্কে অতিবৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এসব দাবির সঙ্গেও বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাননি বিশেষজ্ঞরা।

জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কাবে মাদানি বলছেন, মানুষের মধ্যে জলবায়ু ও জলচক্র সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অবিশ্বাস থেকেই এমন ধারণার জন্ম হচ্ছে।

অনেকে এই গুজবের সঙ্গে ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রক্রিয়াকে জড়িয়ে দিচ্ছেন। এটি আসলে একটি সীমিত পরিসরের আবহাওয়া পরিবর্তন পদ্ধতি, যেখানে বিদ্যমান মেঘে সিলভার আয়োডাইডের মতো কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রভাব খুবই সীমিত, সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত।

আবুধাবির খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ডায়ানা ফ্রান্সিস বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, এটি কেবল বিদ্যমান মেঘকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে, পুরো আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো প্রযুক্তি নয়।

একই সুরে ওয়াইওমিং বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবহাওয়াবিদ ড. জেফ ফ্রেঞ্চ জানান, যদি কোনো প্রভাব থেকেও থাকে, তা এতটাই ক্ষুদ্র যে স্বাভাবিক আবহাওয়ার ওঠানামার মধ্যেই হারিয়ে যায়।