ইসরায়েলে বসবাসরত এক মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রসিকিউটরদের দাবি, বিভিন্ন তথ্য ও ছবি সংগ্রহের বিনিময়ে তিনি প্রায় এক হাজার ৪০০ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি পেয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ২১ বছর বয়সী এলি লাভন জেরুজালেমের একটি ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে টেলিগ্রামে প্রকাশিত একটি চাকরির বিজ্ঞাপনে সাড়া দেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক মাস পর ইসরায়েলে ফেরার পর ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা এক বিদেশি এজেন্ট টেলিগ্রামের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। এরপর ধাপে ধাপে তাকে বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, লাভন জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় এলাকার পরিত্যক্ত ভবন এবং নির্দিষ্ট একটি মুদি দোকানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এক পর্যায়ে তাকে একটি শপিং মলের শৌচাগারের ডাস্টবিনে সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে ‘কাজ সম্পন্ন হয়েছে’ লেখা একটি নোট রেখে আসার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এসব কাজের বিনিময়ে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কয়েক দফায় অর্থ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ গোপন রাখতে তিনি দুটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং তিনটি আলাদা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছিলেন বলেও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, পরে তিনি প্রথম এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করলেও ইরানি গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। ফেব্রুয়ারিতে জেরুজালেমের একটি রেস্তোরাঁয় ৫০ শেকেলের নোটে মোড়ানো একটি ইউএসবি ড্রাইভ রেখে আসেন এবং নিজের পাসপোর্ট হাতে একটি সেলফিও পাঠান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় এজেন্ট তার সহপাঠীদের নাম জানতে চাইলেও লাভন সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন এবং অন্য কাউকে এতে জড়াননি।
গত ৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের দুটি এবং শত্রুপক্ষের কাজে লাগতে পারে এমন তথ্য সরবরাহের ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
জেরুজালেম জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয়ের কর্মকর্তা রোনিত শেনৎজার ইয়াকোবি বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইসরায়েলের ভেতরে লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে, এই মামলাটি তারই একটি উদাহরণ।
তবে লাভনের আইনজীবী রাজ বার ত্সভি অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিদেশি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হলেই কাউকে গুপ্তচর বলা যায় না। অভিযোগপত্রে যে ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই।
২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৬০ জন ইসরায়েলির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এমন মামলায় ইসরায়েলে বসবাসরত কোনো মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ঘটনা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন