ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক অগ্রগতি নিয়ে চাপের মুখে থাকা রাশিয়া এখন সংঘাতকে ‘ন্যাটোর সঙ্গে যুদ্ধ’ হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে রুশ জনগণের সামনে নতুন রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করছেন বলে বিশ্লেষকদের দাবি।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক বৈঠকে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ দাবি করেন, ইউক্রেন পশ্চিমা সমর্থকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্যোগ ফিরে পেয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার এসব বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাশিয়া দাবি করেছে, চলতি বছরে তারা ইউক্রেনে তিন হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা দখল করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার- এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রুশ বাহিনীর প্রকৃত অগ্রগতি প্রায় ৯৭ বর্গকিলোমিটার।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পরিস্থিতিতে মস্কো অভ্যন্তরীণ জনমত ধরে রাখতে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রচারণা জোরদার করছে। ইউক্রেনের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইহোর রোমানেঙ্কোর ভাষ্য, রাশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে বোঝানো যে এটি শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নয়, বরং ন্যাটোর বিরুদ্ধেও একটি বৃহত্তর সংঘাত।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও সম্প্রতি বলেছেন, “এটি একটি বাস্তব যুদ্ধ”, যেখানে ইউক্রেনের পেছনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। রাশিয়ায় এতদিন সরকারি ভাষ্যে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলা হলেও এখন ‘যুদ্ধ’ শব্দটির ব্যবহার বাড়ছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় হামলা, জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপসহ বিভিন্ন সমস্যার ব্যাখ্যা দিতে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে সংঘাতের ধারণা সামনে আনছে।
এদিকে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা বরাবরই বলে আসছে, রাশিয়ার ২০২২ সালের আগ্রাসনের কারণেই বর্তমান যুদ্ধের সূচনা হয়েছে। মস্কো অবশ্য দাবি করে আসছে, ইউক্রেনকে সামরিকভাবে দুর্বল করা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অভিযানের লক্ষ্য।
সূত্র: আলজাজিরা