খামেনির শোকযাত্রায় আহমাদিনেজাদ, মৃত্যুর গুঞ্জনের অবসান

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার প্রায় সাত মাস পর অবশেষে জনসমক্ষে দেখা গেল ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায়ের শোকমিছিলে অংশ নিতে এসে ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। তার এই উপস্থিতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জনের অবসান ঘটে।

আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ ও তার অফিসিয়াল মাধ্যম হিসেবে পরিচিত টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘দলাত-ই বাহার’-এ তার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ইরানি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও খামেনির জানাজায় তার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর তীব্র বিমান হামলার মধ্যে আহমাদিনেজাদকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এরপর থেকেই তার নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে খামেনির জানাজায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দেহরক্ষীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভিড়ে হাঁটতে দেখা যাওয়ায় সেই সব দাবি ভুল প্রমাণিত হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর তার প্রকাশ্য উপস্থিতি এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে আহমাদিনেজাদের এই উপস্থিতিকে অনেকেই ক্ষমতার মাঠে টিকে থাকার বার্তা হিসেবে দেখছেন।

তবে খামেনির সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। বরং তাদের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইতিহাস।

খামেনির সঙ্গে সম্পর্কের উত্থান ও পতন

মাহমুদ আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন ছিল। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা যায়।

২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় খামেনি প্রকাশ্যে আহমাদিনেজাদ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনকে ঘিরেই দেশজুড়ে ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ নামে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরের বিভাজনকে সামনে নিয়ে আসে।

কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে তাদের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। তৎকালীন গোয়েন্দামন্ত্রী হেইদার মোসলেহির পদত্যাগের ঘটনা এই বিরোধকে তীব্র করে তোলে।

আহমাদিনেজাদ মোসলেহিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে খামেনি পাল্টা নির্দেশ দিয়ে তাকে পুনর্বহাল করেন। সর্বোচ্চ নেতার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আহমাদিনেজাদ প্রায় ১১ দিন নিজের বাসভবনে অবস্থান নেন এবং সরকারি কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন।

এই ঘটনার পর ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খামেনির প্রভাবাধীন গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে।

খামেনির সঙ্গে একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক যাত্রা তাই পরবর্তীতে রূপ নেয় বিরোধ, দূরত্ব এবং ক্ষমতার বাইরে থাকার এক দীর্ঘ অধ্যায়ে।

NM/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত