ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নৌযান চলাচলে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তাঁর দাবি, তেহরানের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রাইট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামের ওপর পড়া প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।
রাইটের মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অল্পসংখ্যক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা প্রণালিতে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম; অন্যদিকে ইরান অনুমতি ও তদারকি ছাড়া নিরাপদে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে না বলে দাবি করে আসছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয়, বীমা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম, সবকিছুর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা মার্কিন নৌবাহিনীর রয়েছে। তবে অবরোধ ও হরমুজ সংকট যত দীর্ঘ হবে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর তার চাপও তত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থাৎ, ওয়াশিংটন যেখানে হরমুজে নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে সামনে এনে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তেহরান সেখানে প্রণালির ওপর নিজের প্রভাবকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব এখন আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই; বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিও এর সরাসরি ঝুঁকিতে পড়েছে। সূত্র: ফক্স নিউজ