ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর’ অভিযানের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর তিনি এই হুমকি দিলেন। চুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো দেশের ওপর পরিচালিত সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক অপারেশন চালানো হবে।

তিনি লেখেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ হারিয়েছে এবং এখন তাদের নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বাধার মুখোমুখি হতে হবে।

একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যেকোনো প্রকার ব্যবসা করা দেশের ওপরও কঠোর শুল্ক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেন তিনি।

ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, যেসব দেশ ইরানের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে কোনো ধরনের সহায়তার পথ খোলা রাখবে, তাদের নিজেদেরই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তেল চোরাচালান, ক্যাশ ট্রান্সফার, ফ্রন্ট কোম্পানি—সবকিছু এখনই বন্ধ করতে হবে। বিশ্বকে নিরপেক্ষ থাকা বন্ধ করতে হবে; এটি একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ (ECONOMIC D-DAY)।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ট্রাম্প প্রশাসন 'অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি' ব্যানারে ইরানের রাজস্ব আয় বন্ধ ও দেশটির তেল, নৌপরিবহন ও আর্থিক খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল।

তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই নতুন বার্তাকে তাঁর অসহায়ত্ব ও ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াশিংটন ভিত্তিক আল জাজিরার সাংবাদিক মাইক হ্যানা উল্লেখ করেন, নতুন কী ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা সম্ভব তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ব্র্যান্ডিস ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট ইকোনমিক্স অধ্যাপক নাদের হাবিবির মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই চাপ বাড়াতে চায় তবে তাদের চীনের সেইসব ব্যাংক ও ছোট স্বাধীন তেল পরিশোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে হবে যারা এখনও ইরানি তেল কিনছে। তবে তা মার্কিন-চীন বাণিজ্য সম্পর্কে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা