ইরান যুদ্ধে মার্কিন রণতরীর অতিরিক্ত ব্যবহার, বাড়ছে সামরিক চাপ

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ পরিচালনা ও বাহিনীকে সহায়তা দিতে বর্তমানে অঞ্চলটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সক্রিয় বিমানবাহী রণতরীর মধ্যে দুটি সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা বেশি। দেশটির নৌবাহিনীতে মোট ১১টি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। তবে সবগুলো একসঙ্গে সক্রিয়ভাবে মোতায়েন থাকে না; বেশিরভাগ সময় কয়েকটি রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ বা প্রস্তুতির পর্যায়ে থাকে।

২৮০ দিনের বেশি সমুদ্রে আব্রাহাম লিংকন

ইরান যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর একটি হলো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। টানা ২৮০ দিনেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর এখন এটি দেশে ফেরার পথে রয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই মোতায়েনের ফলে রণতরীটির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন সামনে এসেছে। সেখানে খাবারের ঘাটতি এবং নষ্ট টয়লেট ও গোসলের ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিমিটজ শ্রেণির প্রতিটি বিমানবাহী রণতরীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩২ দশমিক ৯ মিটার। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও কর্মকর্তা নিয়ে পরিচালিত এসব রণতরীতে প্রায় ৭০টি উড়োজাহাজ বহন করা যায়। এর অর্ধেকেরও বেশি যুদ্ধবিমান হওয়ায় এগুলো একটি ভাসমান বিমানঘাঁটির মতো কাজ করতে পারে।

ইরানের কাছাকাছি অবস্থান থেকে এমন একটি রণতরী পরিচালনা করার অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল বিমানশক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে।

তবে এর মূল্যও দিতে হচ্ছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানশক্তির এই ব্যাপক কেন্দ্রীভবনের একটি কৌশলগত মূল্যও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন নেই।

ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক, ইউরোপ বা অন্য কোনো সম্ভাব্য সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একই রণতরী মোতায়েন রাখলে নাবিকদের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রস্তুতি চক্রেও প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কৌশলগত সুবিধা। কিন্তু ইরান যুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে সেই সক্ষমতার বড় অংশ একটি অঞ্চলে আটকে গেলে অন্যত্র ‘স্ট্র্যাটেজিক রেডিনেস’ বা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র ও সেনা ব্যবহার করছে না; একই সঙ্গে নিজেদের বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যও নতুন করে সামলাতে হচ্ছে।

আল-জাজিরার অ্যালেক্স বেয়ার্ডের প্রতিবেদনে এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর তৈরি হওয়া চাপ ও এর কৌশলগত মূল্য তুলে ধরা হয়েছে।