আল্লাহর ইচ্ছায় শীঘ্রই শত্রুদের 'চমক' দেখাবে ইরান: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২১ এএম

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ এবন আল-রেজা বলেছেন, দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে এমন কিছু সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, যা শত্রুদের জন্য ‘চমক’ হয়ে আসতে পারে। তবে সেই সক্ষমতার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে আল-রেজা বলেন, ‘এখন আমাদের চমকগুলো নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। তবে ইরানি জ্ঞান, ইরানের তরুণ প্রজন্ম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে চলমান কার্যক্রম, আল্লাহর ইচ্ছায়-ভালো কিছু চমক নিয়ে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ইরানের শত্রুদের মনে রাখা উচিত—উপযুক্ত সময়ে তারা এসব সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ছয় মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো। দীর্ঘ সংঘাতে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি এখনও পাল্টা সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে দাবি করছে।

এদিকে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর যুদ্ধের চাপ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টর মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পেন্টাগন অবশ্য সামরিক গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ মজুত পুনর্গঠন এবং অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তেহরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান সরাসরি সামরিক সক্ষমতার সব তথ্য প্রকাশ না করে কৌশলগত অনিশ্চয়তা বজায় রাখতে চাইছে। শত্রুপক্ষকে সম্ভাব্য সক্ষমতা সম্পর্কে অনিশ্চিত রাখা যুদ্ধক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ব্যবহার ও মজুত—দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে যুদ্ধের সামরিক মাত্রার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, অন্যদিকে তেহরান এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিচ্ছে।

সামরিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তবে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি তেহরানের নতুন ‘চমক’-এর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখন প্রশ্ন হলো, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা এসব ‘চমক’ আসলে নতুন কোনো অস্ত্র বা সামরিক কৌশল, নাকি শত্রুপক্ষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল—তার উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে।

এমএজেড
আরও পড়ুন