ইরান যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকিভাতা বাড়লো

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন সেনাদের বিশেষ ভাতা বাড়িয়েছে পেন্টাগন। ১ অক্টোবর থেকে ‘হোস্টাইল ফায়ার পে’ দ্বিগুণ করে মাসে সর্বোচ্চ ৪৫০ ডলার এবং ‘ইমিনেন্ট ডেঞ্জার পে’ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২৭৫ ডলার করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন হার কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো এই দুই ধরনের ঝুঁকিভাতায় বড় পরিবর্তন আনা হলো। নতুন নীতির উদ্দেশ্য হলো দায়িত্ব পালনের সময় সেনারা যে ঝুঁকির মুখোমুখি হন, তার বিভিন্ন মাত্রার সঙ্গে ভাতার পরিমাণকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

শত্রুর সরাসরি হামলা বা ‘হোস্টাইল ফায়ার’-এর ঝুঁকিতে থাকা সেনাদের জন্য ভাতা মাসে ২২৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪৫০ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে ‘ইমিনেন্ট ডেঞ্জার পে’—অর্থাৎ যুদ্ধ, সন্ত্রাস, গৃহযুদ্ধ বা অন্যান্য কারণে শারীরিক ক্ষতির তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে থাকা সদস্যদের ভাতা সর্বোচ্চ ২২৫ ডলার থেকে ২৭৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ইমিনেন্ট ডেঞ্জার পে দৈনিক হিসাবেও দেওয়া হবে। নতুন হিসাবে প্রতি দিন ৯.১৬ ডলার করে যোগ হবে এবং মাসে সর্বোচ্চ ২৭৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যাবে। একজন সেনাসদস্য একই সময়ের জন্য হোস্টাইল ফায়ার পে ও ইমিনেন্ট ডেঞ্জার পে—দুই ধরনের ভাতা একসঙ্গে পাবেন না।

মার্কিন আইনে হোস্টাইল ফায়ার এলাকায় দায়িত্ব পালন, শত্রুর হামলার সরাসরি সংস্পর্শে আসা বা এমন ঘটনায় গুরুতর শারীরিক ঝুঁকির মুখে পড়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

নতুন ভাতার সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযান সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত শুরুর পর বিভিন্ন অঞ্চলকে ‘ইমিনেন্ট ডেঞ্জার’ এলাকার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫৮টি এলাকা ইমিনেন্ট ডেঞ্জার পে পাওয়ার জন্য নির্ধারিত। এর মধ্যে পারস্য উপসাগর, আরব সাগর, ওমান উপসাগর, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান, তুরস্ক ও দিয়েগো গার্সিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল রয়েছে।

ইরানও দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনাদের জন্য ইমিনেন্ট ডেঞ্জার এলাকার তালিকায় রয়েছে। সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি অঞ্চলের ঝুঁকির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করা হয়েছে।

ঝুঁকিভাতা বাড়ানোর ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিনকে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।

এই মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে USS Theodore Roosevelt ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং USS Makin Island অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে একই সময়ে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকতে পারে।

এই সামরিক মোতায়েনের ফলে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে। তবে নতুন ভাতার ঘোষণা নিজেই কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়।

পেন্টাগনের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন হারে মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন মাত্রার ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী সেনাদের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী সেনাদের ঝুঁকি এক নয়; তাই সরাসরি শত্রুর হামলার মুখে থাকা এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক এলাকায় দায়িত্ব পালনের মধ্যে পার্থক্য রেখে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে নতুন অর্থবছরের শুরুতে তা কার্যকর করা হয়।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে এই পরিবর্তন কার্যকর হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের আর্থিক সুবিধা বাড়ল। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের পরিধি কতটা বাড়ছে, সেই বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।