মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের নিন্দা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ এএম

সৌদি আরবের মদিনায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদ মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় হুথিদের নিন্দা করেছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (এমডব্লিউএল)। সংগঠনটি হামলাকে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব শেখ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুলকরিম আল-ঈসা এক বিবৃতিতে বলেন, মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো হামলা বেসামরিক অবকাঠামো ও ধর্মীয় পবিত্রতার লঙ্ঘন। তিনি এটিকে ইসলামি মূল্যবোধ ও মৌলিক মানবিক নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলা হয়।

জোটের দাবি, হামলার পর পরিচালিত তদন্ত, কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে তারা হুথিদের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও পুরো বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছেন আল-মালিকি।

সৌদি জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, তাইবাহ কেন্দ্রটি মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এ কারণে হামলাটিকে শুধু অবকাঠামোর ওপর আঘাত নয়, মদিনার ধর্মীয় পবিত্রতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হিসেবে দেখছে রিয়াদ।

তবে হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সৌদি জোটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে তারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ বলেছে, মদিনায় বেসামরিক স্থাপনা ও ধর্মীয় পবিত্রতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে হামলা মুসলিম বিশ্বের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সংগঠনটির মহাসচিব সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং দেশটির পবিত্র স্থান ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

সংগঠনটি একই সঙ্গে বলেছে, বেসামরিক স্থাপনা ও ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার মৌলিক নীতিকে সম্মান করা জরুরি। বিবৃতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগও করা হয়েছে।


মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগের পর মুসলিম ও আরব বিশ্বের আরও কয়েকটি সংগঠন ও দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) হামলাটিকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং মদিনার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলাকে পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনও হামলার নিন্দা করেছে এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। তুরস্কও মসজিদে নববীর সেবা প্রদানকারী অবকাঠামোয় হামলার নিন্দা করেছে।

মদিনার ঘটনাটি সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় ঘটল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর সীমান্তপারের হামলা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে চলতি বছরে হুথিদের সৌদি ভূখণ্ড ও জাহাজে হামলা এবং ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে।

এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। হুথিরা সে অভিযোগও অস্বীকার করে। ফলে মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র শহরকে ঘিরে হামলার অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকার আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি। তবে হামলার দায় নিয়ে সৌদি জোট ও হুথিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকায় ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।

সূত্র: আল জাজিরা

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত