কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন একটি সরকারি টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালককে দায়িত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরকারের সঙ্গে ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন এই টাস্কফোর্সকে।
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের নেতৃত্বে গঠিত এই টাস্কফোর্সের নাম দেওয়া হয়েছে সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর যোগাযোগ সমন্বয় করবে এই বাহিনী।
টাস্কফোর্সে ক্লেটনের পাশাপাশি থাকছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের প্রধান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল। এটি সরাসরি ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ নিয়ন্ত্রণে আইন করার প্রয়োজনীয়তার বিরোধিতা করে আসছেন ট্রাম্প। প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং মানবসমাজের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চললেও তিনি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে নন। বরং যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রতিযোগিতায় চীনের চেয়ে এগিয়ে আছে বলে দাবি করে এই অবস্থান ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই মূলত জয়ী হবে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে এআই উন্নয়নের কোনো উদ্যোগের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন তিনি। তার যুক্তি, এমন উদ্যোগ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা চীনের হাতে চলে যেতে পারে।
এদিকে এআই খাতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তিনি বলেছেন, এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় কংগ্রেস শুধু আরেকটি কমিটি গঠন বা দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে না; মানুষের সুরক্ষায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রয়োজন।
ট্রাম্প সেপ্টেম্বরে প্রথম নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহীও প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এআই কোম্পানিগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের ওপরই বেশি নির্ভর করে আসছেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরা এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিজেদের ওপর নেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্পেসএক্স ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা স্বাক্ষর করেন।
এদিকে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ওপেনএআই স্বীকার করেছে, তাদের একটি স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট জুনে অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, ওই এজেন্ট দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারের একটি পরিসংখ্যান পোর্টালে প্রবেশ করেছিল। যদিও সেখানে থাকা তথ্যকে অ-সংবেদনশীল বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে সরকার আগস্টে জানতে পারে এবং এর আইনি পরিণতি হতে পারে বলে জানান তিনি।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও সম্প্রতি বলেছেন, এআইয়ের সুফলের জন্য সমাজকে এর কিছু ঝুঁকি মেনে নিতে হতে পারে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড রবিনসন অভিযোগ করেছেন, এআই উন্নয়নের দ্রুতগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ওপেনএআই ব্যর্থ হচ্ছে।
গত মাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওপেনএআই তাদের সর্বশেষ একটি এআই মডেলের উন্মোচনও স্থগিত করে। ফলে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ, নিরাপত্তা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ, এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
ট্রাম্প এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদলে সুপার ইন্টেলিজেন্স বা সংক্ষেপে এসআই নাম ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। ২৯ সেপ্টেম্বরের এক নির্বাহী আদেশে সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট ও প্রতিবেদনে এআই শব্দের পরিবর্তে এসআই ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইলন মাস্কসহ কয়েকজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে নতুন নামটি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি