যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী থেকে ‘ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ সম্পূর্ণভাবে দূর করে নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল-জাজিরা, সিএনএন, বিবিসি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ফ্লোরিডা থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটন ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও চারটি নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন।
এর একটি হল দেশটি থেকে ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ সম্পূর্ণরূপে দূর করা। অপরটি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আয়রন ডোম নির্মাণ।
বিবিসির খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি ট্রান্সজেন্ডার সেনাদের বিষয়ে একটি নীতি প্রণয়নে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাহী আদেশটি এখনই মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ট্রান্সজেন্ডারদের নিষিদ্ধ করেনি।
ফ্লোরিডায় একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী যোদ্ধা থাকার বিষয়টি নিশ্চিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী থেকে ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ বের করে দেবেন তিনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রান্সজেন্ডার আমেরিকানরা দেশটির সামরিক বাহিনীতে কাজ করার ক্ষেত্রে নানা নীতিগত পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছেন।
ট্রাম্প এর আগেও ২০১৭ সালে তার প্রথম মেয়াদে ট্রান্সজেন্ডারদের সামরিক বাহিনীতে ভর্তি নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালে তা বাতিল করেন। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীতে প্রায় ৮ হাজার ট্রান্সজেন্ডার সদস্য আছেন বলে অনুমান করা হয়।
এছাড়া আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচি নির্মাণের নির্দেশ দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘অত্যাধুনিক আয়রন ডোম মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আমেরিকানদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, অপর দুটি আদেশে একটির লক্ষ্য হবে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগগুলো বাতিল করা এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাধ্যতামূলক নিয়মাবলি মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় বরখাস্ত প্রায় ৮ হাজার মার্কিন সেনাসদস্যকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেবেন। এই সদস্যরা ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বরখাস্ত হয়েছিলেন।
এর আগে, ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে ফিরেই ৪২টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। প্রথম দিকের আদেশগুলোর অনেকগুলোই অভিবাসন এবং সামাজিক ইস্যু নিয়ে ছিল। যেমন-তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেন।