জীবন ও মৃত্যুর শাশ্বত বাস্তবতা নিয়ে মানুষকে গভীরভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করতে থাইল্যান্ডে শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘মৃত্যুর উৎসব’ বা ‘ডেথ ফেস্ট ২০২৬’। ‘রিমেম্বার (স্মরণ করা) প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবে দর্শনার্থীরা তাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবার সুযোগ পাচ্ছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে রোববার (১৫ মার্চ) পর্যন্ত। থাইল্যান্ডের মুআং থং থানি এলাকার ‘ইমপ্যাক্ট এক্সিবিশন হল–৬’-এ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলছে এই আয়োজন। ‘পিসফুল ডেথ’, ‘দ্য ক্লাউড’ এবং ‘চুজাই অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে সহযোগিতা করছে থাই রেড ক্রস সোসাইটিসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
উৎসবের মূল আকর্ষণ: ৫টি বিশেষ জোন
সাধারণ মেলার মতো নিছক বিনোদন নয়, বরং আত্মঅন্বেষণের জন্য এই উৎসবকে পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. ওল্ড স্কুল: এখানে নিজের যত্ন নেওয়া এবং প্রিয়জনদের দেখভালের কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।
২. বিফোর আই ডাই: জীবনের না বলা কথা বা অমীমাংসিত কাজগুলো সমাধানের প্রেরণা দিচ্ছে এই প্রদর্শনী।
৩. হিউম্যান লাইফ-ব্রেরি: এখানে কোনো বই নয়, বরং জ্যান্ত মানুষের অভিজ্ঞতা পড়া যাবে। প্রবীণ ব্যক্তি, এলজিবিটিআই প্রতিনিধি বা শোকাতুর মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে জীবনকে চেনার সুযোগ থাকছে এখানে।
৪. লাইফ জার্নি: বার্ধক্য, গুরুতর অসুস্থতা এবং শেষ সময়ের সেবার প্রস্তুতি নিয়ে তথ্যমূলক একটি জোন।
৫. ফ্রেন্ডস ইট: আয়োজকদের মতে, মৃত্যুর আগে যে খাবারগুলো অন্তত একবার চাখা উচিত, সেই সুস্বাদু সব খাবারের সমাহার এখানে।
উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ‘টেস্ট ডাই অ্যান্ড ফিউনারেল ডিজাইন সেন্টার’। এখানে প্রতীকী কফিনে শুয়ে দর্শনার্থীরা বর্তমান মুহূর্তের গুরুত্ব উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। এটি মানুষকে মৃত্যুর ভয় জয় করে সম্মানের সঙ্গে একে গ্রহণ করার মানসিক শক্তি জোগায়।
আয়োজকদের মতে, মানুষ যেন বাস্তব জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই একটি নিরাপদ পরিবেশে মৃত্যু এবং জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারে, সেটিই এই ‘ডেথ ফেস্ট’-এর মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এই উৎসবে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের কোনো টিকিট বা ফি দিতে হচ্ছে না।
সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট