প্যারোলে কারামুক্ত থাকসিন সিনাওয়াত্রা, থাকতে হবে কড়া নজরে

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে ব্যাংককের ক্লংপ্রেম সেন্ট্রাল কারাগার থেকে তিনি বের হয়ে আসেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর প্রায় আট মাস কারাবাসের পর তিনি মুক্ত হলেন।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে সাদা শার্ট ও নীল প্যান্ট পরিহিত থাকসিনকে কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে তার পরিবারের সদস্য, ফিউ থাই পার্টির নেতাকর্মী এবং ‘রেড শার্ট’ নামে পরিচিত বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। থাকসিন হাত জোড় করে সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান এবং জাতীয় সংগীত বাজার সময় থাই পতাকাকে সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ-মেবাখ গাড়িতে করে তিনি বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

থাইল্যান্ডের সংশোধন বিভাগ জানিয়েছে, সাধারণ প্যারোলের আওতায় মুক্তি পাওয়া ৮৫৯ জন বন্দির মধ্যে থাকসিন একজন। তবে মুক্ত হলেও তাকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে:
১. আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সার্বক্ষণিক ‘ইলেকট্রনিক মনিটরিং’ (EM) ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে।
২. মুক্তি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে ব্যাংকক প্রবেশন অফিসে রিপোর্ট করতে হবে।
৩. প্যারোল চলাকালে প্রতি মাসে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দিতে হবে।

৭৬ বছর বয়সী এই ধনকুবের রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তার সাজার মেয়াদ শুরু হয়। যদিও তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন কারাগারের পরিবর্তে পুলিশ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট তার হাসপাতালের সময়টুকুকে বৈধ কারাবাস হিসেবে গণ্য না করলেও, দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ সম্পন্ন হওয়ায় তিনি প্যারোলে মুক্তির যোগ্যতা অর্জন করেন।

২০০৮ সাল থেকে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর ২০২৩ সালের আগস্টে নাটকীয়ভাবে দেশে ফেরেন থাকসিন। তার এই মুক্তি থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। 

FJ
আরও পড়ুন