ফ্রান্সে হান্টাভাইরাস সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত, দেশজুড়ে সতর্কতা

ফ্রান্সে ‘হান্টাভাইরাস’ (Hantavirus)-এর সম্ভাব্য সংক্রমণ ঘিরে নতুন করে নজিরবিহীন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপথে একটি জাহাজ থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার সময় এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে এই ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লেক্যুয়নু এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় জাহাজ থেকে উদ্ধার করা যাত্রী ও কর্মীদের ফ্রান্সে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। পথিমধ্যে এক যাত্রীর তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা ও চরম শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা তার শরীরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের প্রবল আশঙ্কা করছেন। বর্তমানে তাকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সংস্পর্শে আসা সকল যাত্রী, ক্রু এবং চিকিৎসাকর্মীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় শুকিয়ে যাওয়া বর্জ্যের ক্ষুদ্র কণা বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে ফুসফুসে ভয়াবহ সংক্রমণ (Hantavirus Pulmonary Syndrome) এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে আশার কথা হলো, এই ভাইরাস সাধারণত করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়ায় না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে এমন এলাকা এড়িয়ে চলা এবং খাদ্যদ্রব্য ঢেকে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশটির সীমান্ত ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে বিদেশি যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সন্দেহভাজন ওই রোগীর ল্যাব পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে ফ্রান্স সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।