তুরস্কজুড়ে পথকুকুর ধরার অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ কুকুর আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র বা অন্য কোথাও আইনবহির্ভূতভাবে কুকুর হত্যা করা হচ্ছে— এমন অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা আহমেত ইয়াভুজ কারাচা দেশটির পার্লামেন্টের কৃষি, বন ও গ্রামীণ বিষয়ক কমিটিকে জানান, বর্তমানে তুরস্কে পথকুকুরের সংখ্যা আনুমানিক ১২ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ কুকুর ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে, যা মোট পথকুকুরের প্রায় ৭৮ শতাংশ। আগে দেশে পথকুকুরের সংখ্যা ৪০ লাখ বলে ধারণা করা হলেও সরকারি হিসাবে সেই সংখ্যা অনেক কম।
কারাচা বলেন, রাস্তাঘাট থেকে উদ্ধার করা কুকুরগুলোকে চিকিৎসা, বন্ধ্যাকরণ ও পুনর্বাসনের পর আশ্রয়কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত ‘প্রাকৃতিক আবাসস্থল’-এ রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, কেবল ৫১৯৯ নম্বর প্রাণী সুরক্ষা আইনে নির্ধারিত বিশেষ পরিস্থিতিতেই কুকুরকে ইউথেনেশিয়া (কষ্টহীন মৃত্যু) দেওয়া হয়।
তার ভাষায়, আইনে ইউথেনেশিয়ার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এর বাইরে আমাদের আশ্রয়কেন্দ্র বা প্রাকৃতিক আবাসস্থলে কোনো ধরনের ইউথেনেশিয়া কার্যক্রম পরিচালিত হয় না।
তুরস্কে পথকুকুর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৪ সালে দেশটির সরকার একটি আইন পাস করে, যার আওতায় পৌরসভাগুলোকে পথকুকুর ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন ন্যায় ও উন্নয়ন পার্টি (একেপি) এবং তাদের জোটসঙ্গী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পার্টির (এমএইচপি) সমর্থনে পাস হওয়া ওই আইনে বিপজ্জনক, মরণাপন্ন কিংবা দত্তক নেওয়ার অনুপযুক্ত কুকুরকে ইউথেনেশিয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো এবং প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এই আইনকে ‘গণহত্যার আইন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, তুরস্কে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও কার্যকর তদারকি না থাকায় আইনটি মানবিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় এবং এর আড়ালে ব্যাপকহারে পথকুকুর হত্যা করা হতে পারে।
এদিকে আহমেত ইয়াভুজ কারাচা আরও বলেন, অনেক মানুষ কুকুর দত্তক নেওয়ার পর আবার সেগুলো রাস্তায় ছেড়ে দেন। তাই এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জানান, দেশের নয়টি মহানগরে পথকুকুর সংগ্রহ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ১০ থেকে ১১টি মহানগরে এ কার্যক্রম নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে সরকারের আশা। সূত্র: টার্কিশ মিনিট