ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তুরস্কের একটি ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে তুরস্কভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং এর দুই সহযোগী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন গ্লোবাল অ্যাসেট লিজিং ও গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের জন্য কোটি কোটি ডলারের লেনদেন সহজ করতে ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় লেনদেনের সুযোগ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রির অর্থ চীন থেকে তুরস্কে স্থানান্তর এবং পরে তা নগদ অর্থ ও স্বর্ণে রূপান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ব্যাংকটি ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহযোগী ব্যাংকিং সেবা দিয়েছে এবং কুদস ফোর্স ও এর সহযোগীদের নিয়ন্ত্রিত হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে তুর্কি ব্যবসায়ী সিতকি আয়ান ও তার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্কও ছিল বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপে রাখা হবে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তার অভিযান অব্যাহত রাখবে।
এই নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্টের অংশ। গত মাসে চালু করা এ অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক যোগাযোগ আরও সংকুচিত করা এবং দেশটির রাজস্ব প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করা।
নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা মার্কিন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও সম্পদে স্বার্থ জব্দ হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের লেনদেনও সাধারণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান লেনদেন ধীরে ধীরে বন্ধ করার সুযোগ দিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় একটি সাধারণ অনুমতিও জারি করেছে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। গত সপ্তাহে মিসরের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ব্যাংক মিসরের সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাখাগুলোর বিরুদ্ধেও ইরানের সঙ্গে লেনদেনের অভিযোগে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নতুন এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি আরও বাড়ল। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগ বজায় রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সূত্র: ডন