ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম বেড়ে ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের জুনে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৮১৬ ডলারে উঠেছিল এই জ্বালানির দাম।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডিজেলের বাড়তি দামে চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, ট্রাকচালক ও পণ্য পরিবহন ব্যবসায়ীরা। জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় পরিবহন খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্য ও সেবার দামে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে শুধু গত দুই দিনেই প্রতি গ্যালনে দাম বেড়েছে ১৭ সেন্ট। সাধারণত তুলনামূলক বেশি কর, কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং অপরিশোধিত তেল থেকে গ্যাসোলিনের তুলনায় কম ডিজেল উৎপাদনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেশি থাকে।

এবার সেই চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালিতে সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলাও বিশ্বজুড়ে ডিজেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান বলেন, পরিশোধন সক্ষমতার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম বাড়ার চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাসের অর্থনীতির অধ্যাপক এরিখ মিউহলেগারের মতে, মানুষের দৈনন্দিন ভোগের প্রায় সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে ডিজেল জড়িত।

জ্বালানির বাড়তি দামে মাছ ধরা, কৃষি ও নির্মাণের মতো খাতে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। কৃষকদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে, কারণ যুদ্ধের কারণে সারের দামও বেড়েছে।

মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সরবরাহব্যবস্থা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক জেসন মিলার বলেন, শরৎকালীন শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণ মৌসুমের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ডিজেলের মজুত বাড়তে থাকে। কিন্তু এবার ওই সময়ের আগেই দেশটিতে ডিজেলের মজুত নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে।

ট্রাক পরিবহন খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বড় পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সামাল দিতে সারচার্জ বাড়াতে পারলেও ছোট ব্যবসাগুলো তুলনামূলক বেশি চাপে পড়ছে। ওনার-অপারেটর ইন্ডিপেনডেন্ট ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের জনসংযোগ পরিচালক জর্জ ও’কনর বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে ছোট ট্রাকিং ব্যবসাগুলোই প্রথম ধাক্কা অনুভব করে।

তিনি বলেন, পণ্য পরিবহনের ভাড়া যখন এমনিতেই কম থাকে, তখন ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে ছোট পরিবহন ব্যবসাগুলোর সামান্য মুনাফাও দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

অর্থনীতিতে ডিজেলের গুরুত্ব তুলে ধরে মিলার বলেন, ভোক্তাদের ওপর গ্যাসোলিনের দামের প্রভাব বেশি হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ডিজেল তুলনামূলক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের জন্য সুদের হার কমানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বরং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হতে পারে।

অ্যাগেইন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার জন কিলডাফ বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ ইতোমধ্যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এএস
আরও পড়ুন