৪৪ বছরে সর্বনিম্নে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোলিয়াম মজুত

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বর্তমানে দেশটির জরুরি তেলভান্ডারে রয়েছে ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতের সর্বনিম্ন স্তর।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর সময় দেশটির কৌশলগত তেলভান্ডারে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। যুদ্ধের পর থেকে মজুতের প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ সপ্তাহেই রিজার্ভ থেকে আরও প্রায় ৩১ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ে। যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল কৌশলগত তেল বাজারে ছেড়েছে বলে মার্কিন সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে এবিসি নিউজ।

কৌশলগত তেল মজুতের উদ্দেশ্য হলো বড় ধরনের সরবরাহ সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করে জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলা করা। যুক্তরাষ্ট্রের এ মজুত টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ লবণগুহায় সংরক্ষণ করা হয়।

তবে মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুত আরও কমে গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা ও নীতিগত বিকল্প, দুটিই সীমিত হয়ে যেতে পারে।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।

ফলে একদিকে কৌশলগত তেলের মজুত দ্রুত কমছে, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন