বিধানসভা নির্বাচন: ২৯১ আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণডঙ্কা বাজিয়ে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের তিনটি আসন (দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং) মিত্র দল অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা গণতান্ত্রিক মোর্চা’র জন্য ছেড়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) কালীঘাটে নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী।

এবারের নির্বাচনে নিজের পুরোনো কেন্দ্র দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থেকেই লড়বেন মমতা ব্যানার্জী। অন্যদিকে, গতবারের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূলের বাজি পবিত্র কর।

তৃণমূলের এবারের তালিকায় বড় চমক হলো গ্ল্যামার জগত ও পেশাজীবীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। তালিকায় রয়েছেন-

চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি: পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (ব্যারাকপুর), অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী (বরানগর), সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি (রাজারহাট-গোপালপুর), লাভলী মৈত্র (সোনারপুর), ইন্দ্রনীল সেন (চন্দননগর), সোহম চক্রবর্তী (করিমপুর) এবং নয়না ব্যানার্জী (চৌরাঙ্গী)।

প্রাক্তন কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়: প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর (ডোমকল) এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার শিব শংকর পাল (তুফানগঞ্জ)।

প্রার্থী তালিকা থেকে এবার বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। যার মধ্যে অন্যতম প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেতা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।

নারী ক্ষমতায়নে জোর দিয়ে এবার রেকর্ড সংখ্যক ৫২ জন নারীকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এছাড়া তালিকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৭ জন, তফশিলি জাতির ৭৮ জন এবং তফশিলি উপজাতির ১৭ জন জায়গা পেয়েছেন। বয়সের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রাখা হয়েছে-৮৮ জন প্রার্থী ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিজয় চিহ্ন (V Sign) দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি বিজেপিকে বলব, আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন? এজেন্সি দিয়ে কলকাঠি না নেড়ে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুন। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে নেমে দেখুন।’ 

তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন, “২০২৬-এর ভোটে আমরা ২২৬টির বেশি আসন পাব এবং তৃণমূলই আবার ক্ষমতায় ফিরবে।’

মমতা অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের নামে কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তবে বাংলার মানুষ এর সঠিক জবাব দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।