জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কয়লার দিকে ঝুঁকছে এশিয়া

ইরান-ইসরায়েল এবং মার্কিন সংঘাতের জেরে এশিয়াজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশ- সব দেশই এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে। পরিবেশবিদরা একে জলবায়ুর জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখলেও দেশগুলো পরিস্থিতির চাপে কয়লাকেই বেছে নিচ্ছে। খবর- দ্য গার্ডিয়ান

বিশ্বের মোট লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। যুদ্ধের কারণে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ায় এলএনজি সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ওপর কাতারের বড় একটি এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রে হামলার ফলে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ঝুঁকি গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের মতে, বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি হারিয়ে গেছে, যার ৮০ শতাংশই ছিল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য।

জ্বালানি সংকট সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে

  • দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড: কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • ফিলিপাইন: দেশে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে এবং কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
  • ভারত: দেশের মোট বিদ্যুতের ৭৫ শতাংশই আসে কয়লা থেকে। সরকার এখন সব কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
  • বাংলাদেশ: মার্চ মাসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আমদানি বাড়িয়েছে। এছাড়া ঘাটতি মেটাতে সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগাম ছুটি এবং লোডশেডিংয়ের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লার ব্যবহার বাড়ানো স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এটি পরিবেশের জন্য ধ্বংসাত্মক। কিংস কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞ পলিন হাইনরিখস বলেন, "এই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশগুলোর উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা, কারণ এটি বাজারের অস্থিরতা থেকে মুক্ত।"

ইউরেশিয়া গ্রুপের মতে, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে, তাই স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে কয়লার দিকে ঝুঁকা দীর্ঘমেয়াদে বিপদ ডেকে আনতে পারে।