ভারতই বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’, ওদের কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

ভারতকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র আক্রমণ করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। বর্তমানে বিশ্বে কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।’

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে পাকিস্তান নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটকে পাকিস্তান ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে। জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, এই অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং শত্রুকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে আইএসপিআর প্রধান বলেন, ‘ভারতীয় সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন রাজনীতিকরণ হয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ ঘটেছে। আগে ওদের বাহিনী পেশাদার থাকলেও এখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতীয় রাজনীতিকদের বক্তব্য এখন পুরোপুরি যুদ্ধবাজদের মতো, যা এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।’

আহমেদ শরিফ চৌধুরী অভিযোগ করেন, পাকিস্তান নয় বরং ভারতই সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে পাকিস্তানকে উপস্থাপনের যে ভারতীয় চেষ্টা ছিল, তা এখন ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে। ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা-বিশেষ করে কাশ্মীর ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে।’

কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এটি ভারতের কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। সেখানে জনসংখ্যা ও মানচিত্র পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।’ 

তিনি আরও দাবি করেন, ভারত আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

পাকিস্তানের দাবি, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর ভারতীয় গণমাধ্যমের ‘আসল চেহারা’ উন্মোচিত হয়েছে এবং তাদের চালানো তথ্যযুদ্ধ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক বছরে পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানে একাধিক সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, যার ফলে পাকিস্তানে হামলার ঘটনা অনেক কমে এসেছে।