ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভের পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ‘ভোট পরবর্তী সহিংসতা’ শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
বিভিন্ন জেলায় হামলার চিত্র:
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল: টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পর তার বস্তি উন্নয়ন পর্ষদের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ছাড়া হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
উত্তরবঙ্গ: জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ী এবং টাউন স্টেশনের কাছে তৃণমূল কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরার সামনেই ভাঙচুর চালায় বিজেপি কর্মীরা। কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা সভাপতির তৈরি কার্যালয় ভেঙে সেখানে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গ ও মেদিনীপুর: মিনাখায় জয়ী হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মহুয়া সরদার মাইতির বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর এবং তার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পশ্চিম মেদিনীপুরে সাবেক জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব ও তার কাউন্সিলর স্ত্রীর ওপর হামলা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া: বহরমপুরে গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধানের বাড়িতে ডিজে বাজিয়ে মিছিল করে এসে ভাঙচুর ও বাইকে পেট্রোল ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নদীয়ার নবদ্বীপে তৃণমূল কার্যালয়ের নথিপত্র বাইরে বের করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দিনহাটা কলেজে ভোট গণনাকালে তৃণমূল এমপি জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে ঘিরে বিক্ষোভ ও অশালীন মন্তব্য করা হয়। এমনকি তাকে সরিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে জুতো ও ঢিল ছোড়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তৃণমূলের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বড় প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অনেক জায়গায় বিজেপি সমর্থকরা একে ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিজয় উল্লাস’ বলে দাবি করছেন। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বহু এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও, ফল প্রকাশের পর এই ব্যাপক সহিংসতা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব আসনে তৃণমূল জয়ী হয়েছে, সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আজ বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে এই সহিংসতা নিয়ে আরও কড়া বার্তা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিপর্যয়
২০২৪ সালে দল গঠন, প্রথম নির্বাচনেই বিজয়ের বাজিমাত