দীর্ঘ টানাপোড়েন ও নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন থালাপথি বিজয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হওয়ায় তার সরকার গঠনের পথে আর কোনো আইনি বা রাজনৈতিক বাধা নেই। চেন্নাইয়ের নেহেরু স্টেডিয়ামে এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিজয়ের দল এককভাবে ১০৮টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ডিএমকে জোটের শরিক দলগুলো বিজয়কে সমর্থন দেওয়ায় পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। কংগ্রেস (৫টি আসন), ভিসিকে (২টি), আইইউএমএল (২টি), সিপিআই (২টি) এবং সিপিএম (২টি) বিধায়কদের সমর্থন পাওয়ায় বিজয়ের পক্ষে এখন মোট ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে।
বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দিতে কংগ্রেসের ৫৫ বছরের পুরনো মিত্র ডিএমকে (DMK)-এর হাত ছেড়ে দেওয়া তামিল রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ডিএমকে ও অন্যান্য মিত্ররা কংগ্রেসকে ‘অস্থির সঙ্গী’ বলে সমালোচনা করলেও, কংগ্রেস বিধায়করা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে বিজয়ের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।
দশকজুড়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর যে দ্বিপক্ষীয় আধিপত্য ছিল, বিজয় তা একক শক্তিতে ভেঙে দিয়েছেন। বড় কোনো দলের সঙ্গে আগাম জোটে না গিয়ে একা লড়াই করার যে ঝুঁকি বিজয় নিয়েছিলেন, ভোটাররা তাকেই সমর্থন দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই ম্যান্ডেটকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, রূপালি পর্দার সফল নায়ক থেকে এখন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার অপেক্ষায় বিজয়। এখন দেখার বিষয়, তার ‘টিভিকে’ দল তামিলনাড়ুর মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়। সূত্র: আনন্দবাজার