শ্রীলঙ্কার কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় নিহত ২৫

শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলের নেগোম্বো কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন কারারক্ষী রয়েছেন। এছাড়া দুই দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

উপকূলীয় শহর নেগোম্বোর এই কারাগারে রোববার (৬ জুলাই) দুই বন্দি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন বন্দি কারারক্ষীদের অস্ত্র দখল করে নেয়। প্রথম দিনের সংঘর্ষেই দুজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে পুরুষ বন্দিদের একটি অংশ এবং পাশের ইউনিটে থাকা নারী বন্দিদের কয়েকজন কারাগারের ছাদে উঠে নিজেদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সোমবার (৬ জুলাই) নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়, যখন একদল বন্দি কারাগারের মূল ফটক ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং কারাগারের ভেতর থেকে একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরে মাদক পাচারচক্র সম্পর্কে এক বন্দির দেওয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই এই ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

আহতদের একটি অংশকে নেগোম্বো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, অনেকের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। এছাড়া অনেকেই গুরুতর কাটা ও আঘাত পেয়েছেন। আরও কয়েকজন আহতকে কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে কারাগারের একটি অংশের ছাদ ধসে পড়ে। এতে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন নারী বন্দিও আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনরা জড়ো হন। তাদের অনেকেই অভিযোগ করেন, কারাগার কর্তৃপক্ষ তাদের স্বজনরা কোথায় আছেন, কে জীবিত কিংবা কে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কারাগার কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দিচ্ছে না।

এদিকে কারাগারের বিভিন্ন অংশ এখনও তল্লাশি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। পুলিশের অনুরোধে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কারা বিভাগের মুখপাত্র এ সি গাজানায়েকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু বন্দিকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিচার ও কারা বিষয়ক মন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশটির কারাগারগুলোতে মাঝেমধ্যে দাঙ্গার ঘটনা ঘটলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আরেকটি কারাগারে সংঘর্ষে ১১ জন নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে মোট ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি ছিলেন, যা কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ। সূত্র: বিবিসি