ন্যাটো সম্মেলনের আগে কিয়েভে রুশ হামলায় নিহত ১১

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

ন্যাটো সম্মেলন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ভয়াবহ এই হামলায় রাজধানীতে অন্তত ১০ জন এবং কিয়েভের আশপাশের এলাকায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৬ জন। হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে চালানো এই হামলায় রাজধানীতে অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কিয়েভের আশপাশের জেলাগুলোতে আরও একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর হামলায় রাশিয়া ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিট এবং ৩টা ১৫ মিনিটে আরও কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। হামলার সময় পুরো ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে থাকে এবং হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভূগর্ভস্থ শেল্টারে ছুটে যান।

কিয়েভের অন্তত ১৫টি ভবন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক পোদিলস্কি জেলার চারটি আবাসিক ভবনও রয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তকাচেঙ্কো।

রোববার (৫ জুলাই) রাতে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই সতর্ক করেছিলেন, ন্যাটো সম্মেলনের আগে রাশিয়া বড় ধরনের আরেকটি হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া নতুন করে ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস এবং তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে এমন হামলা চালানো ভ্লাদিমির পুতিনের পরিচিত কৌশল।

আগামী মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে জেলেনস্কির।

গত সপ্তাহেও কিয়েভে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। সেই হামলায় ৩১ জন নিহত হন, যা চলতি বছরে রাজধানীতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন, উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ব্যবহার আরও বাড়িয়েছে। ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাদের যুদ্ধ সক্ষমতায় আঘাত হানার চেষ্টা করছে।

এদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের একটি হামলায় শহরের কাছে অবস্থিত জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার পর পুরো শহর কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন