চীনের সাবমেরিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, উদ্বিগ্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্র

প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে চীন। বেইজিং বলছে এটি ছিল নিয়মিত সামরিক মহড়া, তবে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনী একটি সাবমেরিন থেকে ডামি ওয়ারহেড বহনকারী একটি ‘কৌশলগত’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। চীনের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ এবং আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা একটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হলেও নিরস্ত্র আন্তঃমহাদেশীয় পাল্লার (ICBM-রেঞ্জ) ক্ষেপণাস্ত্রের এই উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীনের দ্রুত ও অস্বচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে তারা বেইজিংকে অর্থবহ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।

আঞ্চলিক একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, কিরিবাতি ও টুভালুর একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ)-এর ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে কিরিবাতি বা টুভালুর ইইজেড সীমান্তসংলগ্ন সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। তবে চীন ক্ষেপণাস্ত্রটির মডেল প্রকাশ করেনি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি জেএল-২ অথবা জেএল-৩ সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এই পরীক্ষাকে ‘অবাঞ্ছিত ও উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা অঞ্চলটির দেশগুলোর জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংও একে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থিতিশীলকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। জাপান চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে, আর তাইওয়ান বলেছে, এই পরীক্ষা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সম্প্রসারণবাদী মনোভাবের আরেকটি ইঙ্গিত।

উল্লেখ্য, চীন সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) পরীক্ষা চালিয়েছিল, যা ছিল ৪৪ বছরের মধ্যে উন্মুক্ত মহাসাগরে তাদের প্রথম এমন পরীক্ষা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সেনাবাহিনী এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উচ্চমাত্রার পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করে।