৬৫ বছরেও অটুট চীন-উত্তর কোরিয়া সামরিক জোট

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

বিশ্ব রাজনীতিতে বহু জোট সময়ের সঙ্গে ভেঙে গেছে। কিন্তু চীন ও উত্তর কোরিয়ার ৬৫ বছরের সামরিক মিত্রতা এখনো টিকে আছে। তবে আগের মতো আবেগ নয়, এখন এই সম্পর্কের ভিত্তি মূলত কৌশলগত স্বার্থ ও নিরাপত্তা।

১৯৬১ সালের ১১ জুলাই বেইজিংয়ে চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঝৌ এনলাই এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সুং মৈত্রী, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি সই করেন। এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দেশ সামরিক সহায়তা দেবে। এটি এখনো কার্যকর এবং চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট।

চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং তিন দিনের সফরে চীন গেছেন। যদিও দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বদলেছে। চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, আর উত্তর কোরিয়া এখনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিচ্ছিন্ন একটি রাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য উত্তর কোরিয়াকে শক্তিশালী করা নয়, বরং দেশটিকে স্থিতিশীল রাখা। কারণ উত্তর কোরিয়া ভেঙে পড়লে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী চীনে ঢুকে পড়তে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একীভূত কোরিয়া গড়ে উঠলে সেটিও বেইজিংয়ের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হবে। তাই উত্তর কোরিয়াকে চীন নিজের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘বাফার’ বা সুরক্ষা বলয় হিসেবে দেখে।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়াও শুধু চীনের ওপর নির্ভর করে থাকতে চায় না। ২০২৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার পর মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়েছে। এতে উত্তর কোরিয়া নতুন কৌশলগত সুবিধা পেলেও, চীনের জন্য এটি একই সঙ্গে সুযোগ ও উদ্বেগের বিষয়। কারণ বেইজিং চায় না, উত্তর কোরিয়ায় নিজের প্রভাব রাশিয়ার কাছে হারিয়ে ফেলতে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা এবং যৌথ মহড়া বাড়ায় চীন ও উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশকে আবারও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক আরও বদলাতে পারে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, আর চীন বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট,আবেগের চেয়ে পারস্পরিক কৌশলগত প্রয়োজনই এখন এই ৬৫ বছরের পুরোনো জোটকে টিকিয়ে রেখেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Attr/AHA
আরও পড়ুন